ঢাকায় বসেই নয়টি ইউরোপীয় দেশের ভিসা, সত্য নাকি গুজব??

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি তথ্য ভাইরাল হয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকে ঢাকায় বসেই নয়টি ইউরোপীয় দেশের ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে। এই তথ্য শুনতে যেমন আকর্ষণীয়, বাস্তবে তা কতটুকু সত্য, সেটাই বিশ্লেষণ করা জরুরি।

কী বলা হচ্ছে?

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করা হচ্ছে যে, এখন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও সুইডেনের ভিসার জন্য ঢাকায় বসেই আবেদন করতে পারবেন। বলা হচ্ছে, সুইডেন দূতাবাসের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। কিন্তু আদতে ব্যাপারটি পুরোপুরি সত্য নয়।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ যাওয়ার সহজ উপায়

বাস্তব চিত্র

বাংলাদেশে অবস্থিত সুইডেন দূতাবাস গত প্রায় এক দশক ধরে শুধুমাত্র এই দেশগুলোর ভ্রমণ ভিসার (Schengen C টাইপ ভিসা) আবেদন গ্রহণ করে আসছে। কারণ, ঢাকায় এসব দেশের নিজস্ব দূতাবাস নেই। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর সুইডেন দূতাবাসে ভিসা আবেদনকারীদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কর্মীসংখ্যা সীমিত থাকায় দূতাবাস কার্যত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল।

এই পরিস্থিতির সমাধান হিসেবে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে সুইডেন দূতাবাস তাদের ভিসা প্রসেসিংয়ের দায়িত্ব ‘ভিএফএস গ্লোবাল’ নামক একটি আউটসোর্সিং কোম্পানির হাতে তুলে দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধুমাত্র ভ্রমণ ভিসার আবেদন এখন ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে।

আরো পড়ুনঃ Ielts ছাড়া ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়?

গুজব কীভাবে ছড়ালো?

বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক বৈঠক করেন। এই বৈঠকের পর ১৭ ডিসেম্বর ভিএফএস গ্লোবাল সুইডেনসহ আরও ৮টি দেশের ভিসা প্রসেসিং চালু করে। এই দুই ঘটনাকে একসঙ্গে মিলিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও তথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সার অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়িয়ে দেয়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইউরোপীয় ভিসা নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয় এবং কিছু অসাধু এজেন্ট সুযোগ নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসে।

কী ধরনের ভিসার জন্য ঢাকায় আবেদন করা যাবে?

যারা ইউরোপীয় দেশের ভিসার আবেদন করতে চান, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো:

  • Schengen C টাইপ (ভ্রমণ) ভিসা: এই ভিসার আবেদন এখন ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে ঢাকায় করা যাবে।
  • National Visa D টাইপ (কর্মসংস্থান, শিক্ষাসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী ভিসা): এই ভিসার আবেদন আগের মতোই দিল্লিতে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ ইউরোপ যেতে বয়স কত লাগে?

প্রতারণা থেকে সাবধান

সোশ্যাল মিডিয়ায় যদি কেউ বলে, “ঢাকায় বসেই ইউরোপের যেকোনো ভিসা পাওয়া যাচ্ছে,” তাহলে বুঝতে হবে এটি গুজব। কোনো দালাল বা এজেন্টের প্রলোভনে পড়ে নিজের মূল্যবান সময় ও অর্থ নষ্ট করবেন না।

কীভাবে নিশ্চিত হবেন?

  • ভিসা সংক্রান্ত সঠিক তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের ওয়েবসাইট দেখুন।
  • শুধুমাত্র অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে আবেদন করুন।
  • গুজব থেকে দূরে থাকুন এবং অন্যদেরও সচেতন করুন।

আরো পড়ুনঃ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বশেষ সদস্য দেশ কোনটি?

শেষ কথা

ইউরোপে যেতে চাইলে সঠিক পথে চেষ্টা করুন, ভুল তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। বাস্তবতাকে বুঝে, যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিন। আপনার স্বপ্ন সত্যি হোক সঠিক তথ্যের আলোয়।

Leave a Comment

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

এই ওয়েবসাইটটি কোনও অফিসিয়াল ভিসা বা ভ্রমণ সংস্থা নয় এবং এই সাইটের সমস্ত তথ্য অনলাইন, নিউজ পোর্টাল, ব্লগ ও উইকিপিডিয়া থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই কোন ভুল হলে ক্ষমা করবেন। এবং পসিবল হলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাবেন