ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন ফরম

আপনার ভোটার আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ ভুল আছে? -তাহলে চিন্তার কোন কারন নেই। আপনি চাইলে এখন নিজের ঘরে বসে ভুল তারিখ থাকা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে পারবেন।

আর আপনি কিভাবে অনলাইনে জন্ম তারিখ সংশোধন করবেন। সেজন্য আপনার কি কি কাগজপএ প্রয়োজন হবে। এবার আমি আপনাকে স্টেপ বাই স্টেপ দেখিয়ে দিবো।

ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করতে কি কি লাগবে?

যদি আপনার ভোটার আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ ভুল থাকে। এবং আপনি যখন সেই ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করবেন। তখন অবশ্যই আপনার নিকট বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপএ থাকতে হবে। যেমন,

শিক্ষিত ব্যাক্তির কাগজপএঃ আপনি যদি একজন শিক্ষিত মানুষ হয়ে থাকেন। তাহলে অবশ্যই আপনার যে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ প্রদান করতে হবে। সেটা হতে পারে আপনার এসএসসি পরীক্ষার সনদ কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার সনদ। আপনাকে শুধু সার্টিফিকেট দিয়ে জন্ম তারিখের প্রমান দেখাতে হবে। তাহলে আপনি ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করতে পারবেন।

তবে যদি আপনি শিক্ষিত না হন এবং আপনার যদি কোনো শিক্ষা সার্টিফিকেট না থাকে। তাহলে আপনি কি করবেন? কিভাবে আপনি আপনার জন্ম তারিখের প্রমান করবেন?

শিক্ষাহীন ব্যক্তির প্রমানপএঃ প্রথমত আপনাকে সঠিক জন্ম তারিখের প্রমান দেয়ার জন্য বিভিন্ন ডকুমেন্টস ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন,

  1. আপনার ইউপি চেয়ারম্যান এর প্রত্যয়ন সনদ
  2. আপনার নিজস্ব জমির দলিল
  3. নিজের পরিবারের সদস্যদের রেফারেন্স ভোটার কার্ড
  4. আপনার বাসার বিদ্যুৎ বিল এর কপি
  5. অথবা আপনি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছ থেকে হলফনামা দিয়ে। আপনার বয়স এর সত্যতা প্রমান করতে পারবেন।

তো কোনো কারনে যদি আপনার এআইডি কার্ডে জন্ম তারিখ ভুল থাকে। তাহলে সেটি সংশোধন করতে কি কি লাগবে। সেটি নিয়ে উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

আরো পড়ুনঃ ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করার নিয়ম

ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন ফরম

 

কারা ভোটার কার্ডে জন্ম তারিখ সংশোধন করতে পারবে না?

শুনুন, আপনার ভোটার কার্ডে যদি কয়েক মাসের ব্যবধান থাকে। তাহলে আপনি খুব সহজেই আপনার সেই ভুল তথ্য থাকা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে পারবেন। কিন্তুু যদি আপনার আইডি কার্ড এর মধ্যে কয়েক বছরের ব্যবধান থাকে। তাহলে কিন্তুু আপনার জন্য জন্ম তারিখ পরিবর্তন করা খুব কষ্টকর হয়ে দাড়াবে।

কারন, জন্ম তারিখ পরিবর্তন করার বিষয়টি তাদের জন্য করা সুবিধাজনক। যে মানুষ গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো সার্টিফিকেট নেই। কিন্তুু আপনি যদি একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষ হয়ে থাকেন। এবং আপনার ভোটার আইডি কার্ডের জন্ম তারিখে কয়েক বছরের ভুল থাকে। তাহলে এই ধরনের ভোটার কার্ড সংশোধন করতে অনেক বেগ পেতে হবে।

আরো পড়ুনঃ নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম ২০২৩

অনলাইনে কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করবেন?

তো এখন আপনাকে জানতে হবে, কিভাবে আপনি এনআইডি এর জন্ম তারিখ সংশোধন করবেন। আর আপনি চাইলে নিজের ঘরে বসে অনলাইন থেকে, আপনার ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করতে পারবেন। কারন, বাংলাদেশ নির্বাচন অফিস থেকে এখন অনলাইন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

তো আপনি যদি অনলাইন থেকে সংশোধন করতে চান। তাহলে আপনাকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর মূল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। এরপর আপনি সেই ওয়েবসাইট এর মধ্যে একটি একাউন্ট তৈরি করবেন। আর একাউন্ট তৈরি করার সময় আপনার আইডি ও পাসওয়ার্ড গুলো সংগ্রহ করে রাখবেন।

এরপর যখন আপনি আপনার একাউন্ট এর মধ্যে লগ ইন করবেন। তখন আপনি আপনার আইডির ভিতরে সংশোধন নামক অপশন থেকে। ভুল জন্ম তারিখ থাকা ভোটার কার্ড সংশোধন করার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

অনলাইন ছাড়া এনআইডি জন্ম তারিখ সংশোধন করা যাবেনা?

হুমম, অবশ্যই যাবে। তবে সেজন্য আপনাকে ভিন্ন কিছু কাজ করতে হবে। আর সেই কাজ গুলো হলোঃ

  1. আপনি আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপএ গুলো আপনার সাথে নিন।
  2. এরপর একটি জন্ম তারিখ সংশোধন আবেনদ ফরম সংগ্রহ করুন। (ফরম নিচে দেওয়া হয়েছে)
  3. তারপর উক্ত ফরম এর মধ্যে থাকা সকল তথ্য দিয়ে পূরন করুন।
  4. সবশেষে ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে, সরাসরি চলে যাবেন উপজেলা নির্বাচন অফিসে।

সেখানে যাওয়ার পর, আপনি তাদের কে বলবেন, যে আপনার জন্ম তারিখ ভুল আছে। বলার পর, আপনাকে কি কি করতে হবে। সেগুলো সেখান থেকে জেনে নিতে পারবেন।

ভোটার আইডি কার্ড বয়স সংশোধন করতে কত দিন লাগে?

উপরের আলোচনা থেকে আমরা ভোটার আইডি কার্ড বয়স সংশোধন করার বিষয়ে অনেক তথ্য জানতে পারলাম। তবে এগুলোর পাশাপাশি আমাদের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নিতে হবে। সেটি হলো, ভোটার আইডি কার্ড বয়স সংশোধন করতে কত দিন লাগে।

তো স্বাবাভিক ভাবে আপনি যদি সঠিক পদ্ধতি মেনে কাজ করেন। আর আপনি যদি বয়স সংশোধন করার জন্য সকল ডকুমেন্টস সঠিক ভাবে সাবমিট করতে পারেন। তাহলে আপনি সংশোধন আবেদন করার ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই বয়স সংশোধন করতে পারবেন।

তবে যদি আপনার ‍উক্ত সময়ের মধ্যে বয়স সংশোধন না হয়। তবে আপনাকে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। আর এই সময়ের মধ্যে আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ড বয়স সংশোধন করতে পারবেন।

জাতীয় পরিচয় পত্র নাম সংশোধন করতে কি কি লাগে?

কোনো কারণে যদি আপনি দেখতে পান যে, আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র এর মধ্যে থাকা নাম ভুল আছে। তাহলে আপনাকে সেই ভুল নাম থাকা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করে নিতে হবে।

তো যখন আপনি এই সংশোধন করার জন্য আবেদন করবেন। তখন আপনার নিকট বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস থাকতে হবে। আর সেই ডকুমেন্টস গুলোর তালিকা নিচে প্রদান করা হলো। যেমন,

  1. জাতীয় পরিচয় পত্রের মূল কপি
  2. জন্ম সনদের মূল কপি
  3. দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  4. আবেদনপত্র
  5. সংশোধনের কারণ উল্লেখ করে একটি আবেদনপত্র
  6. বোর্ড পরীক্ষার সনদ ( JSC, SSC, HSC)

মনে রাখবেন, উপরের এই ডকুমেন্টস গুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ড এর মধ্যে থাকা আংশিক নামের ভুল সংশোধন করার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে তার জন্য এই প্রত্যেক টা ডকুমেন্টস এর স্ক্যান কপি থাকতে হবে।

এর পাশাপাশি আপনি কি কারণে আপনার ভোটার আইডি কার্ড এর নাম সংশোধন করতে চান। সেই কারণ টি আপনাকে ষ্পষ্ট করে বলতে হবে। আর নাম সংশোধনের জন্য আপনি বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করতে পারবেন। যেমন,

  1. আপনার নাম ভুলভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
  2. কোনো কারণে আপনার নাম পরিবর্তন হয়েছে।
  3. বিবাহ করার কারণে আপনার নাম পরিবর্তন হয়েছে।
  4. এছাড়াও অন্যান্য কারণে নাম পরিবর্তন হয়েছে।

তো নাম পরিবর্তন করার সময় আপনি উপরোক্ত কারণ গুলো যুক্ত করতে পারবেন। আর তারপর আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ডের আংশিক নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

Nid সংশোধন কত বার করা যায়?

সত্যি বলতে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য। যার আমাদের সবার জেনে রাখা উচিত। তো আমরা অনেকেই জানিনা যে, ভোটার আইডি কার্ড এর তথ্য গুলো সর্বোচ্চ কতবার সংশোধন করা যাবে।

তো আপনি আপনার NID Card এর মধ্যে থাকা একই তথ্য শুধুমাত্র একবার সংশোধন করতে পারবেন। যেমন, আপনি যদি আপনার নাম সংধোন করতে চান। তাহলে একবারই আপনার নাম সংশোধন করতে পারবেন। দ্বিতীয়বার আর কোনো নাম সংশোধন করার আবেদন করতে পারবেন না।

আমাদের শেষকথা

অনেক সময় দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমাদের ভোটার আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ ভুল আসে। তো সেই সময় আপনি কিভাবে ভুল জন্ম তারিখ সংশোধন করবেন। আজকে সেই পদ্ধতি গুলো কে দেখিয়ে দিয়েছি। তবে এরপরও কােনো সমস্যা হলে, নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। ধন্যবাদ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

এই ওয়েবসাইটটি কোনও অফিসিয়াল ভিসা বা ভ্রমণ সংস্থা নয় এবং এই সাইটের সমস্ত তথ্য অনলাইন, নিউজ পোর্টাল, ব্লগ ও উইকিপিডিয়া থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই কোন ভুল হলে ক্ষমা করবেন।