পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই সহজে ই-পাসপোর্ট পাওয়ার উপায়
বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবস্থা দিন দিন আধুনিক হচ্ছে, আর তারই অংশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে। তবে এতদিন ই-পাসপোর্ট পেতে পুলিশের ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক ছিল, যা অনেক সময় ও হয়রানির কারণ হতো। ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নিয়ম বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে এখন জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধনের ভিত্তিতেই সহজে ই-পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। নতুন এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে প্রবাসী ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তুলেছে।
কেন পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিল করা হলো?
সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসনিক কাজগুলোকে সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। মূল কারণগুলো হলো:
- সময়ের অপচয় কমানো – আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে অনেক সময় লাগত, যা এখন আর প্রয়োজন হবে না।
- হয়রানি কমানো – পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে অনেক জায়গায় হয়রানির শিকার হতে হতো।
- ডিজিটাল নিরাপত্তা – এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করেই এখন পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
- প্রবাসীদের সুবিধা – যারা বিদেশে থাকেন, তাদের আর দেশে এসে ভেরিফিকেশন করানোর প্রয়োজন হবে না।
ই-পাসপোর্ট পেতে যেসব কাগজপত্র লাগবে
সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য:
- ১৮ বছরের নিচে: জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC – English Version)
- ১৮ থেকে ২০ বছর: এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন সনদ
- ২০ বছরের বেশি: শুধুমাত্র এনআইডি
শিশুদের জন্য:
- বাবা-মায়ের এনআইডি
- জন্ম নিবন্ধন সনদ
ঠিকানার প্রমাণ:
- গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির বিল
বিভিন্ন পেশার জন্য প্রয়োজনীয় নথি:
- শিক্ষার্থীরা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি বা প্রত্যয়নপত্র
- সরকারি চাকরিজীবী: জিও, এনওসি, পেনশন বই
- ব্যবসায়ী: ট্রেড লাইসেন্স
- কৃষক: জমির পর্চা
ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার ধাপ
১. অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
- www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Apply Online’ অপশনে ক্লিক করুন।
- নিজের জেলা ও থানা নির্বাচন করুন।
- ই-মেইল, মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
- আবেদন ফর্ম পূরণ করুন (NID-এর তথ্য অনুযায়ী)।
২. পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করুন
- বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক বা কার্ডের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে পারবেন।
৩. বায়োমেট্রিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন
- অনলাইনে নির্ধারিত তারিখ ও সময় নির্বাচন করুন।
৪. নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে যান
- ছবি তুলতে হবে (রঙিন পোশাক পরা ভালো)।
- আঙুলের ছাপ (Fingerprint) এবং স্বাক্ষর দিতে হবে।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
৫. পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন
- আবেদন অনুমোদিত হলে SMS ও ই-মেইলে নোটিফিকেশন পাবেন।
- অফিস থেকে বিতরণ স্লিপ ও এনআইডি নিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।
ই-পাসপোর্টের ফি ও সময়সীমা
ক্যাটাগরি | ৫ বছর মেয়াদ (৪৮ পৃষ্ঠা) | ১০ বছর মেয়াদ (৪৮ পৃষ্ঠা) |
---|---|---|
রেগুলার (১৫-২১ দিন) | ৪,০২৫ টাকা | ৫,৭৫০ টাকা |
এক্সপ্রেস (৭-১০ দিন) | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,০৫০ টাকা |
সুপার এক্সপ্রেস (২ দিন) | ৮,৬২৫ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
কীভাবে ই-পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা অনলাইনে চেক করবেন?
- www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে যান।
- ১৩ ডিজিটের অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা ওআইডি নম্বর প্রবেশ করান।
- আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে ক্লিক করুন।
পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট সংগ্রহের সুবিধা
- দ্রুত প্রসেসিং: পাসপোর্ট পেতে সময় কমবে।
- বিরক্তিকর হয়রানি বন্ধ: পুলিশি ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
- বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সুবিধা: দূতাবাস থেকে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন।
- ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিতকরণ: এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় যাচাই হবে।
উপসংহার
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালুর পর থেকে পাসপোর্ট আবেদন অনেক সহজ হয়েছে। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক থাকায় কিছুটা জটিলতা ছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন শুধুমাত্র এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে, যা সময় ও হয়রানি কমাবে।
আপনার যদি আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, নিচে কমেন্ট করুন!