বাংলাদেশিদের জন্য থাইল্যান্ড ভিসা সহজ হচ্ছে? প্রধান উপদেষ্টার বড় পদক্ষেপ!
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ থাইল্যান্ডে ভ্রমণ করে থাকেন। চিকিৎসা, ব্যবসা, পর্যটন কিংবা শিক্ষার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল। তবে, গত কয়েক বছর ধরে থাই ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা ধরনের অভিযোগ ও ভোগান্তির কথা শোনা যাচ্ছে। থাইল্যান্ডে যেতে আগ্রহী অনেক বাংলাদেশিকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এমনকি অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পেতেও সময়মতো পৌঁছাতে পারছেন না শুধুমাত্র ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে।
এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আশার আলো দেখিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনের পাশাপাশি তিনি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেইতংটারন সিনাওয়াত্রার সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেখানে তিনি সরাসরি থাই প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ব্যাপারে।
অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, ঢাকায় অবস্থিত থাই দূতাবাসের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় অনেক আবেদনকারীকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। চিকিৎসা, জরুরি ব্যবসায়িক সফর কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কারণে থাইল্যান্ডে যেতে চাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য এটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভিসা প্রক্রিয়ায় দ্রুততা ও সহজীকরণ বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
থাই প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। এটি নিঃসন্দেহে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এছাড়াও, অধ্যাপক ইউনূস দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিপিং, সমুদ্র যোগাযোগ এবং বিমান সংযোগ বৃদ্ধির প্রস্তাবও উত্থাপন করেন। তিনি বিশেষভাবে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, একটি কার্যকর বিমান সংযোগ না থাকায় দুই দেশের ভ্রমণকারীদের অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এক দশক আগে চট্টগ্রাম থেকে থাই শহর চিয়াং মাইয়ের মধ্যে চালু হওয়া এয়ার এশিয়ার ফ্লাইট কতটা প্রভাব ফেলেছিল।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস থাইল্যান্ডের কোম্পানিগুলোকে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, থাই বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।
বাংলাদেশ বর্তমানে থাইল্যান্ড, ভারত ও মায়ানমারের যৌথ সড়ক প্রকল্পে অংশ নেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান অধ্যাপক ইউনূস। এই প্রকল্প কার্যকর হলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে স্থলপথে যোগাযোগ আরও সহজতর হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, থাইল্যান্ডের সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগটি শুধু বাংলাদেশিদের ভ্রমণ সুবিধা বাড়াবে না, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও আরও গতিশীল করবে। প্রধান উপদেষ্টার এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।