দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর। আবেদন করবেন যেভাবে

সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) এবার বাংলাদেশিদের জন্য খুলে দিয়েছে এক অসাধারণ সুযোগ— মাত্র ১ লাখ দিরহাম খরচে মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসা। আগে যেখানে গোল্ডেন ভিসার জন্য ৬ কোটির বেশি বিনিয়োগ দরকার ছিল, এখন তা অনেক কম খরচে পাওয়া সম্ভব। এতে বাংলাদেশিদের জন্য আমিরাতে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ সহজ হয়ে গেল।

আগে গোল্ডেন ভিসা পেতে কী লাগত?

আগে আমিরাতের গোল্ডেন ভিসা নিতে চাইলে কমপক্ষে ২ মিলিয়ন দিরহাম (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করতে হতো। এই বিনিয়োগ হতে হতো ব্যবসা, রিয়েল এস্টেট বা সম্পত্তির খাতে। সাধারণ মানুষের পক্ষে এত বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে ভিসা পাওয়া খুব কঠিন ছিল।

এখন কী পরিবর্তন এসেছে?

২০২৫ সাল থেকে বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নতুন এক নিয়ম চালু হয়েছে। এখন থেকে মাত্র ১ লাখ দিরহাম (প্রায় ৩৩ লাখ টাকা) খরচে মনোনয়নের মাধ্যমে এই ভিসা পাওয়া যাবে। এই নতুন নিয়মে বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই— কেবল কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকলেই হবে।

মনোনয়ন পদ্ধতিতে কী কী দেখা হয়?

  • ভিসা দেওয়ার আগে আবেদনকারীদের কিছু বিষয় যাচাই করা হবে:
  • আর্থিক বা অপরাধমূলক ইতিহাস (যেমন: অর্থপাচার, অপরাধে জড়িত ছিলেন কিনা)
  • সামাজিক রেকর্ড (নৈতিক আচরণ ও অনলাইন কার্যক্রম)
  • ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার আচরণ

সবকিছু ঠিক থাকলে খুব সহজেই আপনি এই ভিসার জন্য মনোনীত হতে পারেন।

গোল্ডেন ভিসা কী?

গোল্ডেন ভিসা হলো ৫ বা ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক ভিসা। এটি সাধারণত দেওয়া হয় কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির প্রার্থীদের, যেমন:

  • বিনিয়োগকারী
  • উদ্যোক্তা
  • বিজ্ঞানী
  • কৃতিত্বপূর্ণ শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েট
  • মানবিক কাজে অবদান রাখা ব্যক্তি
  • চিকিৎসাকর্মী বা ফ্রন্টলাইন হিরো

এই ভিসায় কী সুবিধা মিলবে?

  • স্পনসর ছাড়াই আবাসিক ভিসা পাওয়া যাবে
  • ৬ মাসের বেশি সময় আমিরাতের বাইরে থাকলেও ভিসা বাতিল হবে না
  • পরিবারসহ থাকার সুযোগ
  • অসীম সংখ্যক গৃহকর্মী বা ড্রাইভার স্পনসর করার সুযোগ
  • ব্যবসা, চাকরি বা পেশাদার কাজ করার স্বাধীনতা
  • ভিসাধারীর মৃত্যুর পরও পরিবারের সদস্যরা ভিসার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশটিতে থাকতে পারবেন

আবেদন করার পদ্ধতি (Step-by-Step):

আপনি চাইলে ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করতে হবে ICP (The Federal Authority for Identity and Citizenship)–এর স্মার্ট সার্ভিস ওয়েবসাইট থেকে।

ধাপগুলো:

  1. ICP Smart Services Website এ যান
  2. “Golden Services” সেকশন সিলেক্ট করুন
  3. “Inside UAE” নির্বাচন করুন
  4. “Nomination Request” অপশনে ক্লিক করুন
  5. সার্ভিস কার্ড পড়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি সম্পর্কে জানুন
  6. “Start Service” দিয়ে আবেদন শুরু করুন

আবেদনে লাগবে:

  • পাসপোর্ট কপি
  • ব্যক্তিগত তথ্য
  • পেশাগত পরিচয়
  • প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট ও সুপারিশপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)

যেসব ক্ষেত্রে সুপারিশপত্র লাগবে

  • শিল্পী বা সংস্কৃতিকর্মী: সাংস্কৃতিক কর্তৃপক্ষের সুপারিশ
  • উদ্ভাবক: অর্থ মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশ
  • অ্যাথলেট: ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদন
  • ডিজিটাল টেক এক্সপার্ট: AI & ডিজিটাল কাউন্সিলের সুপারিশ
  • নির্বাহী কর্মকর্তা বা বিজ্ঞানী: কমপক্ষে ৩০,০০০ দিরহামের মাসিক বেতন ও ডিগ্রির কপি লাগবে

ফি কত লাগবে?

  • ই-সার্ভিস ফি: ২৮ দিরহাম
  • ICP ফি: ২২ দিরহাম
  • স্মার্ট সার্ভিস ফি: ১০০ দিরহাম

মোট খরচ: প্রায় ১৫০ দিরহাম (ভিসা চার্জ বাদে)

আবেদন বাতিল হতে পারে কোন কারণে?

  • ৩০ দিনের মধ্যে তথ্য না দিলে
  • ৩ বার ভুল বা অসম্পূর্ণ আবেদন করলে

সতর্ক থাকুন— আবেদন কেবল সরকারি ওয়েবসাইট থেকে করুন। দালাল বা তৃতীয় পক্ষের ফাঁদে পা দেবেন না।

শেষ কথা

বাংলাদেশিদের জন্য এই মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসা প্রক্রিয়া নিঃসন্দেহে এক সুবর্ণ সুযোগ। কম খরচে, সহজ পদ্ধতিতে, স্থায়ীভাবে আমিরাতে থাকার ও কাজ করার পথ এখন খোলা। আপনি যদি ভবিষ্যৎ গড়তে চান আমিরাতে, তবে এখনই সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল পরিষ্কার রাখুন, প্রফেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড ঠিক করুন এবং আবেদন প্রস্তুত করুন।

আরও পড়ুন:

Leave a Comment

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

এই ওয়েবসাইটটি কোনও অফিসিয়াল ভিসা বা ভ্রমণ সংস্থা নয় এবং এই সাইটের সমস্ত তথ্য অনলাইন, নিউজ পোর্টাল, ব্লগ ও উইকিপিডিয়া থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই কোন ভুল হলে ক্ষমা করবেন। এবং পসিবল হলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাবেন